২৯ জানুয়ারি, ২০২২ | ১৫ মাঘ, ১৪২৮

দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা সুগম করেছে কোয়ান্টাম

প্রকাশ : শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা

সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশে দেখা প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে আমার যাওয়ার সুযােগ হয়েছে। এবার কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজ দেখতে লামায় এসে যে বিষয়গুলাে দেখলাম তা অপূর্ব এবং অত্যন্ত সৃজনশীল। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধু বাংলাদেশে না, পৃথিবীর যে-কোনাে প্রান্তে যে-কোনাে দেশের সাথে তুলনা করতে পারি।’

২৬-২৭ নভেম্বর ২০২১ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লােকমান হােসেন মিয়া বান্দরবানের লামায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র শাফিয়ান, স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ও কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন করেন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সচিব মহােদয় কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি কোয়ান্টামের শিক্ষার্থীদের প্যারেড, ডিসপ্লে, ব্যান্ড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভােগ করেন। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক মানের জিমনেসিয়ামে কোয়ান্টামের ক্ষুদে জিমন্যাস্টদের অভাবনীয় পারফরম্যান্স তাকে অভিভূত করে। কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি চৌকষ প্যারেড ও ব্যান্ড বাদক দল সচিব কে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের খ্যাতনামা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযােগ পেয়েছে জেনে লােকমান হােসেন মিয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে৷ তার প্রমাণ কোয়ান্টামে এসে দেখলাম। ২০০১ সালে বান্দরবানের লামায় দুর্গম পাহাড়ে স্থানীয় ৭ জন মুরুং শিশুকে নিয়ে কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আড়াই হাজারের বেশি শিশুকিশাের এখানে আলােকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে। শিশুদের খাবার, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সবকিছুই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়।

২০১৬ থেকে ২০১৯- পর পর চার বছরই ক্রীড়ানৈপুণ্যে দেশসেরা নির্বাচিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযােগিতার শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক যে-কোনাে আসরে কোয়ান্টাম কসমাে স্কুল ও কলেজ সাফল্য দেখিয়ে আসছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকায় আয়ােজিত জাতীয় শিশুকিশাের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে ২০১৫ সাল থেকে টানা ৫ বছর প্রথম স্থান লাভ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব লােকমান হােসেন মিয়ার এই পরিদর্শনে তার সফরসঙ্গী ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক, বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং সুই মারমা, সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব মাে. সাইফুল ইসলাম ভূঞা, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাে. মােস্তফা জাবেদ কায়সার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আতিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মাে. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী।

এসময় সিনিয়র সচিবের স্ত্রী খােদেজা বেগম ও কন্যা আইনানী তাজরিয়ান অর্পিতা সফরে তার সাথে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :