৩০ নভেম্বর, ২০২১ | ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

কোরআনের আলোকে রসুলের মর্যাদা

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী। মানব জাতির জন্য উত্তম নমুনা। সর্বোত্তম মডেল।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ সুরা আল কলম, আয়াত ৪।

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ রাখে তাদের জন্য রসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম নমুনা।’ সুরা আহজাব, আয়াত ২১।
বিধর্মীরাও রসুলের সুন্দর চরিত্র ও মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করেছেন। কারণ তিনি মানুষকে সরল ও সঠিক পথের দিকে ডাকতেন।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি তো কেবল সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।’ সুরা শুরা, আয়াত ৫২।

স্বয়ং আল্লাহ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় বলেন, ‘হে নবী! তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদাতা ও সতর্ককারীরূপে এবং আল্লাহর আদেশে তাঁর দিকে আহ্‌বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। তুমি বিশ্ববাসীকে সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মহা অনুগ্রহ রয়েছে। এবং তুমি অবিশ্বাসী ও কপটাচারীদের কথা শুনো না; ওদের নির্যাতন উপেক্ষা কর এবং আল্লাহর ওপর নির্ভর কর; কর্মবিদায়করূপে আল্লাহই যথেষ্ট।’ সুরা আহজাব, আয়াত ৪৫-৪৭।

সফলতা লাভ করতে হলে কোরআনে রসুলের আদর্শের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।’ সুরা আহজাব, আয়াত ৭১।

পরকালে জান্নাত লাভ করতে হলেও রসুলের অনুকরণের কথা বলা হয়েছে। তাঁর অনুসরণ ছাড়া কেউ জান্নাতেও যেতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবহমান। আর সেটিই প্রকৃত সফলতা।’ সুরা নিসা, আয়াত ১।

কোরআনে রসুলের মর্যাদা কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রসুলের হুকুম মান্য করল সে আল্লাহকেই মান্য করল।’ সুরা নিসা, আয়াত ৮০।

অন্য আয়াতে আরও এসেছে, আল্লাহ বলেন। ‘হে নবী! লোকদের বলে দিন তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহগুলো মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১।

কোরআনে আল্লাহ রসুলকে বিভিন্ন বিষয়ের আদেশ করেছেন। বলেছেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন আল্লাহ এক। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনিও কারও থেকে জন্ম নেননি।’

লেখক : মাহমুদুল হক জালীস, মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদরাসা, কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :