২৭ জুলাই, ২০২১ | ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮

জুয়া খেলতে নিষেধ করায় শিক্ষিকা সহ পরিবারের ৫ জনকে মারধর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা

স্কুলের সামনে জুয়া খেলতে নিষেধ করায় শিক্ষিকা সহ পরিবারের ৫ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের স্বজন ও এলাকার লোকজন উদ্ধার করে বিকাল ৬টায় লামা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাড়াকেন্দ্রের সামনে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা আশ্রয়ণ প্রকল্প পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষিকা সাবেকুন্নাহার (১৮), আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রামের মো: তৈয়ব এর স্ত্রী আনিকা সোলতানা (২৪), মো: আরিফের স্ত্রী হুমাইরা বেগম (২৩), মো: গোলাম কাদের এর স্ত্রী তাহেরা বেগম (৫০) ও গোলাম কাদের এর ছেলে মো: তৈয়ব (২৯)। আহতরা সবাই ভাই- বোন-মা ও একই পরিবারের সদস্য।

আহত শিক্ষিকা সাবেকুন্নাহার বলেন, বিকেলে স্কুলের (পাড়াকেন্দ্র) সামনে কয়েকজন যুবক তাস খেলছিল। সেখানে আমার ছোট ভাই মো: তৈয়ব দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল। আমি আমার ভাইকে বকা দিলে তাস খেলারত আশ্রয়ণ প্রকল্প পাড়ার কবির আহমদের ছেলে মো: শামীম (২০) উঠে এসে আমার সাথে তর্কে জড়ায়। সে এসে আমাকে গালিগালাজ করে ও একপর্যায়ে আমাকে চোখে ঘুষি মেরে আহত করে। আমাকে মারধর করে আহত করার বিষয়টি আমার পরিবারের লোকজন শুনলে তারা আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। এসময় শামীম ও তার ভাই মামুন (২২), শরীফ (১৮) ও তাদের আত্মীয় একই এলাকার মঞ্জুর আহমদের ছেলে শান্ত (২১) লালু (১৮) মিলে আমাদের মারধর করে।

আহত স্কুল শিক্ষিকা সাবেকুন্নাহার

আহত হুমাইরা বেগম কান্না করে বলেন, মারধরের সময় ওরা আমার কানের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের জিনিস ছিনিয়ে যায়।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সাগর সেন বলেন, ছেলে গুলোকে একাধিকবার জুয়া খেলতে নিষেধ করলেও তারা কথা না শুনে স্কুলের মাঠে জুয়া খেলতো। পাড়াকেন্দ্রটির সামনে ১৫/২০ জন যুবক সবসময় জুয়া খেলে। শিক্ষিকা ও তার ভাই-বোন-মাকে মারধরের ঘটনাটির বিচার হওয়া দরকার।

এই বিষয়ে জানতে জুয়াড়ি মো: মামুন এর মোবাইলে কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো: আলমগীর বলেন, আহতরা লামা থানায় আসলে তাদের চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে পাঠানো হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :