২৩ অক্টোবর, ২০২১ | ৭ কার্তিক, ১৪২৮

নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১


মোহাম্মদ ইলিয়াছ

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানের লামা উপজেলা। প্রায় ২ লাখ মানুষ বসবাস করে এই উপজেলায়। বলতে গেলে পুরো জেলার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এই উপজেলায় যাদের মধ্যে বাংলা ভাষাবাসিসহ ৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বসতিও রয়েছে। রাস্তাঘাটে কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এখনো অধিকাংশ ইউনিয়ন রয়ে গেছে পাহাড়ী ও দূর্গম। এই উপজেলার চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যদিও জনবল নিয়ে শত টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে চলছে এই কমপ্লেক্সটি। ডাক্তারেরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করে গেলেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছে অধিক জনবলের অভাবে।

এই কমপ্লেক্সটি ২০১৭ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়েছে। কিন্তু সে অনুসারে জনবল বাড়ানো হয়নি। জনবল রয়ে গেছে এখনো ৩১ শয্যার তাও ৩১ শয্যার মাত্র ৪০ শতাংশ। জরুরী বিভাগের নেই কোন মেডিকেল অফিসার এমনকি আবাসিক মেডিকেল অফিসারও নাই। তাছাড়াও সাপোর্টিং স্টাপ, পরিসংখ্যানবিদ, অফিসসহকারী, ক্যাশিয়ার এবং স্টোর কীপারের পদগুলো শূণ্য রয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশত রুগি দেখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার, নার্স এবং স্টাপদের। অতিরিক্ত চাপ নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে কমপ্লেক্সের সবাই। কিন্তু এভাবে আর কত দিন?
জরুরী প্রয়োজনে নেই অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা। ফলে কোন মাইনর অপারেশনেও ভরসা রাখতে পারছেনা অত্র এলাকার জনগন। এই অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকারও একমাত্র কারন হচ্ছে জনবল সমস্যা।

জনবল সংকটের কারনে করোনা ওয়ার্ড আর সাধারন ওয়ার্ড একই স্টাপ দিয়ে চালানো হচ্ছে।
তাছাড়াও পাহাড়ী ও দূর্গম এলাকা হওয়ায় অত্র উপজেলার মানুষের প্রতিনিয়ত এই দূর্গম পথ বা রাস্তাগুলোতে পায়ে হেঁটে বা পাহাড়ি গাড়িতে করে চলাচল করতে হয়। মাঝে মধ্যে নৌকায় করেও পাড়ি দিতে এই দূর্গম এলাকাগুলো। এমনকি রাতের আঁধারেও চলাচল করতে হয় জরুরী প্রয়োজনে। ফলে সাপ-বিচ্ছু বা বিভিন্ন বন্যপ্রাণির আক্রমনের সম্মূখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত । কিস্তু দুঃখের বিষয় অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন সাপে কাটা রুগি গেলে কোন প্রতিষেধক দিতে পারে না। তাছাড়াও বায়া টেস্টের কোন সুযোগ নেই, নেই ব্রেস্ট এর প্রাথমিক যে চেকআপ তার সুযোগও।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ওপরে একটা লোড পড়ছে প্রতিদিনই। অতিরিক্ত রুগির চাপে তাদেরকে সময়ও দিতে পারি কম। একটা রুগিকে শুধু একটা পেসক্রিপশন দিবো তা না, তাদেরকে একটু কাউন্সিলিং করাটাও জরুরী। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেটা হয়ে উঠেনা।’

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি যোগদান করেছি চলতি বছরের মার্চ মাসে। আসার পর থেকে অত্র কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২টি বিশেষ বেড, অকেজো ২টি কেবিনকে সচল করাসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেছি। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী ভিত্তিতে জনবল খুবই দরকার বিশেষ করে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও জরুরী বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার। যদি কিছুটা জনবলও বাড়ানো যায় তাহলে আশা করছি লামা উপজেলার জনসাধারনকে খুব ভালোভাবে সেবা দিতে সক্ষম হবো। তাছাড়াও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে আমাদের সরঞ্জামাদিরও সমস্যা নাই,আছে শুধু জনবলের। ’

এ ব্যাপারে কথা হয় বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন অংশৈপ্রæ মার্মার সাথে, ‘তিনি বলেন, জনবল সংকটের এই বিষয় নিয়ে মন্ত্রনালয়ে ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :