২৩ অক্টোবর, ২০২১ | ৭ কার্তিক, ১৪২৮

লামা উপজেলার বাজার পাড়ার ঘটনা

লকডাউনে দুইমাস কাজকর্ম নেই, অভাবে যুবকের গলায় ফাঁস

প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঐতিহ্য টিভি

লকডাউনে বিপর্যস্ত সারাদেশ। কাজকর্ম না থাকায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যদিও সরকার সাধ্যমতে মানবিক সহায়তা করে যাচ্ছে। যা হয়ত জনগণের তুলনায় অপ্রতুল। তেমনি একজন কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ বান্দরবানের লামা উপজেলা সদরের সন্তোষ ধর এর ছেলে দীপক ধর (৩৫)। পেশায় একজন দিনমজুর।

গত দুই মাস কাজ না থাকায় চরম আর্থিক অস্বচ্ছলতা নেমে আসে তার পরিবারে। থাকেন লামা বাজারের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ভাড়া বাসায়। রয়েছে কয়েক মাসের বাসা ভাড়াও বকেয়া। তিন কন্যা সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে তার অভাবের সংসার। ইতিমধ্যে আর্থিক অনাটনের কারণে বড় মেয়ে শুক্লা ধর (১০) কে স্বজনদের কাছে দত্তক দিয়েছেন। স্ত্রী রুপালী ধর মানুষের বাসায় কাজ করে যা পায় তা দিয়ে তিনবেলার অন্ন জুটতো না তাদের। দিন যতই যাচ্ছে অভাব যেন তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে। ক্ষুধার্ত সন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণ করতে পারছে সে। চোখেমুখে কোন পথ না দেখে নিরুপায় হয়ে আত্মহননের পথ বেঁচে নেয় দীপক। যদি মিলে মুক্তি ! এমনটাই জানায় নিহতের স্ত্রী রুপালী ধর।

আজ সোমবার (০৩ মে) সন্ধ্যা ৭টায় লামা বাজারের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে দীপক ধর এর ফাঁসিতে ঝুলানো লাশ উদ্ধার করে লামা থানা পুলিশ।

গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষ করা হয়েছে। আগামীকাল ভোরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। এই বিষয়ে লামা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে৷

দীপক ধর এর স্ত্রী রুপালী ধর (২৮) বলেন, আজ সোমবার সকাল ৯টায় আমি ছোট দুই মেয়ে নন্দি ধর (৫) ও টিকলি ধর (২) কে সাথে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হই। তখন আমার স্বামী কাজে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া নেই বলে আমার কাছে ১০০ টাকা চায়। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি তাকে টাকা দিতে পারিনি। পরে আমার স্বামী তার পকেট থেকে ৫ টাকা বের করে আমাকে দেয়, সন্তানদের কিছু খাওয়ানোর জন্য। আমি অন্যের বাড়ির কাজ শেষ করে বিকাল ৬টায় ঘরে ফিরে আসি। দরজা খুলতেই দেখি ঘরের আড়েঁর সাথে কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আমার স্বামী ঝুলে আছে।

আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে লামা থানার পুলিশ এসে ফাঁস থেকে আমার স্বামীর লাশ নামায়। স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণ করতে না পেরে, আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে পড়ায় বিষন্নতা থেকে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে আমার ধারণা। আমি অবুঝ তিনটি সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কি করবো এই বলে বলে লামা থানার কম্পাউন্ডে স্বামীর লাশের সামনে আহাজারি করতে দেখা যায় রুপালী ধরকে।

লাশ দেখতে ও নিহতের পরিবারের খবর নিতে লামা থানায় যায় লামা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জাহেদ উদ্দিন। তিনি বলেন, এরা এত দরিদ্র লাশ ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার টাকা নেই তাদের কাছে। আমি ও হিন্দু সমাজের কয়েকজন নেতা মিলে লাশ বান্দরবান ময়নাতদন্ত করতে পাঠানোর খরচ ও সৎকারের টাকা জোগাড় করে দিই। মানুষ কত অভাবে আছে এই পরিবারকে না দেখলে বুঝা যাবে না।

লাশের প্রাথমিক সুরতহাল করেন লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল সামাদ। তিনি বলেন, নিহতের স্ত্রীর রুপালী ধর এর দেয়া ভাষ্যমতে জানা যায়, আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও অভাবের কারণে দীপক ধর আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :