২৭ জুলাই, ২০২১ | ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮

লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ঘটনা

স্বামী ঘুম, স্ত্রী ঝুলে আছে ফাঁসির রশিতে !

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

ইসমাইলুল করিম, লামা

লামায় গলায় ফাঁস দিয়ে আলিফা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। সে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খেদারবান পাড়ার মোঃ ফারুকের স্ত্রী। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ বসতঘর থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত লাশ নামায় নিহতের স্বামী মোঃ ফারুক ও পার্শ্ববর্তী এক নারী।

আলিফা বেগম লামা উপজেলার ফাইতং খেদারবান পাড়ার মো. মোশারফ হোসেন ও ফিরোজা পারভীনের মেয়ে।

গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাটি রহস্যজনক উল্লেখ করে স্থানীয় লোকজন বলেন, নিহতের স্বামী ও মা-বাবা বলছে কোন কারণ ছাড়া আলিফা বেগম ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। তাদের কথাবার্তায় রহস্যের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কোন কারণ ছাড়া একজন মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে না। বরণ আত্মহত্যার ঘটনাটি সাজানো কিনা তা পুলিশের তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় মানুষ লামা থানা ও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পাওয়া মাত্র ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ কানন চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত নিহতের বাড়িতে এসে লাশ উদ্ধার করে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষ করেন। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিহত গৃহবধূ আলিফা বেগমের লাশ

নিহতের স্বামী মো. ফারুক বলেন, আমি গতরাত ৩টায় বাড়িতে এসে আলাদা রুমে ঘুমায় পড়ি। সকালে আমার নানী শাশুড়ী কান্নাকাটিতে আমার ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার স্ত্রী নিজের রুমে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। পরে আমি ও পাশের এক মহিলা রশি কেটে তাকে ফাঁস থেকে নামাই। আমার সাথে কোন ঝগড়াঝাড়ি হয়নি। কি কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে বুঝতে পারছিনা।

নিহতের মা ফিরোজা পারভিন (৫০) বলেন, আমাকে সকাল সাড়ে ১০টায় বাড়ি পার্শ্ববর্তী একজন কল করে মেয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে জানায়। আমি বাড়িতে এসে মেয়ের লাশ দেখি। তিনি বলেন, এমনি এমনি আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে !

গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :