২৭ জুলাই, ২০২১ | ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮

সুদের টাকার জন্য গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

প্রকাশ : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

নিজস্ব সংবাদদাতা, চকরিয়া

সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নুর আয়শা নামের এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সুদি ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত শওকত ওসমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে । সেই সঙ্গে নুর আয়শাকে পুলিশী নিরাপত্তায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোরাপাড়ার হাপালিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওটি ভাইরাল হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে ।
নুর আয়শা ওই এলাকার আলী আহমদের স্ত্রী। আলী আহমদ একজন দিনমজুর। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

বরইতলী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নিয়াজুল ইসলাম বাদল বলেন, কয়েক মাস আগে নুর আয়শা তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য শওকত ওসমানের কাছ থেকে চার হাজার টাকা সুদের ওপর ধার নেয়। নুর আয়শা সুদ ও আসলসহ আট হাজার টাকা পরিশোধও করেন।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শওকত ওসমান আরো দুই হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু নুর আয়শা ওই টাকা বৃহস্পতিবার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা মানতে নারাজ শওকত ওসমান। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শওকত ওসমান গৃহবধূ নুর আয়শাকে একটি গাছের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর ও অমানবিক নির্যাতন চালায়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে। কিন্তু ভুক্তভোগী নারী এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলায় জানা যায়নি। পরে বুধবার সকালে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হলে জানাজানি হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ সুদী ব্যবসায়ী শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে থানায় নিয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, শওকত ওসমান একটি গাছের সঙ্গে শাড়ির আঁচল দিয়ে বেঁধে রাখেন নুর আয়শাকে। এ সময় নুর আয়শা তার বাঁধন খুলে দিতে বলেন। কিন্তু নুর আয়শার আহবানে সাড়া না দিয়ে শওকত ওসমান কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে নুর আয়শাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং চুলের মুটি ধরে টানতে থাকে ও চুলের মুটিও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন নারী নুর আয়শাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শওকত।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি ইউএনও ও ওসিকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ভুক্তভোগী নুর আয়শার বরাত দিয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাতাবুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে শওকত ওসমানের কাছ থেকে সুদের ওপর চার হাজার টাকা ধার নেন। এরই মধ্যে আট হাজার টাকা পরিশোধও করেন। আরো দুই হাজার টাকা দাবি করে শওকত ওই গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাকের মোঃ যুবায়ের বলেন, ঘটনাটি ফেসবুকে দেখার পরপরই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্ত শওকতকে না পাওয়ায় তার বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে এজাহার দেয়া হয়নি। ভিকটিম পুলিশি সহায়তায় থানায় এসেছে। এজাহার পাওয়ামাত্রই মামলা করা হবে। নির্যাতনকারী শওকতকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, আজ বুধবার সকাল ১১ টায় ফেসবুকের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি আমার নজরে আসে। সাথে সাথে ফোনে থানা ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :