১৯ জুন, ২০২১ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৮

লামায় জনগণের চলাচল রাস্তায় ইউপি সচিবের ড্রেন নির্মাণ

প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা

লামা উপজেলার সরই ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মোঃ মুছা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার মামা শশুরকে জায়গা দখলে দিতে জনসাধারণের ৪০ বছরের চলাচলের একটি রাস্তা স্কেভেটর(মাটি কাটার যন্ত্র)দিয়ে কেটে ড্রেন করে ছড়ার পানির পথ নতুন করে গতিপরিবর্তন দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩জুন সকাল ৮ঘটিকার সময় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আন্দারী দ্রেরাজ মিয়া পাড়ার চলাচলের রাস্তার জোড়া ব্রীজ এলাকায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগে গত বৃহস্প্রতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, লামা- সুয়ারক সড়কের সরই ইউনিয়নের জোড়া ব্রীজ থেকে স্কেভেটর দিয়ে খুঁড়ে প্রায় দুইশত ফুট দৈর্ঘ একটি ড্রেন নির্মান করেছে। ড্রেনটি পুরনো একটি চলালের রাস্তা কেটে করা হয়েছে তা দৃশ্যমান দেখা গেছে।

এদিকে আন্দারী দ্রেরাজ মিয়া পাড়ার বাসিন্দা রুমিনা আক্তার বলেন, বৃহস্প্রতিবার সকাল ৮টার সময় আমাদের সরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা(সচিব) মোঃ মুছা একটি স্কেভেটর দিয়ে পাড়ালোকজনের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি জোর করে কেটে ড্রেন করে ফেলে। আমরা এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও আমাদের কথা না শুনে রাস্তাটি কেটে ড্রেন করে ফেলে। এখন আমাদের চলাচলের কোন রাস্তা নেই।

পাড়ার আরো দুই বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আওয়াল(৬২) ও মোম ইসমাইল বলেন, এ দ্রেরাজ মিয়া পাড়ায় ১৯৮০সাল থেকে আমরা স্ব-পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছি। তখন থেকে জোড়া ব্রীজ হয়ে রাস্তাটি পাড়ার সবাই চলাচল করে আসছি। বৃহস্প্রতিবার সকাল ৮টায় আমার সরই ইউপির সচিব মোঃ মুছা তার মামা শশুর লোগাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেনের জমির উপর ছড়ার পানি বন্ধ করতে আমাদের পাড়ার চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে ড্রেন বানিয়ে ফেলে। এখন আমাদের হাঁটার কোন চলাচলের রাস্তা নেই। আমরা এ বিষয়টির বিষয়ে চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমকে জানিয়েছি।

দীর্ঘদিনের চলাচল সড়কটি

তবে, এ বিষয়ে উপজেলার সরই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ মুছা জানিয়েছেন, এ যায়গা আমার না। আমার মামা শশুরের। তাই, ওনাদের জামাই হিসাবে এ যায়গা দেখভাল করা আমার দায়িত্বে পড়ে। আমার মামা শশুর এখানে থাকেনা। ওনি লোহাগাড়ায় থাকে। মুছার দাবী, এলাকাবাসীর জন্য পরে অন্য দিক দিয়ে রাস্তা করে দিবো।

এ দিকে উপজেলার সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল আলম জানান, আমার ইউনিয়নের ডাবল ব্রীজ থেকে আন্দারী দ্রেরাজ মিয়া পাড়ার লোকজন এ রাস্তা দিয়ে দীর্ঘ ৪০বছর ধরে চলাল করে আসছে। জনগণের চলাচলের এ রাস্তাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে ড্রেন করা আমার পরিষদের সচিব মুছার মুঠেও উচিত হয়নি। যায়গাওতো মুছার নয়। তার মামা শশুরের। চলাচলের রাস্তা কেটে ড্রেন করা তার অন্যায় হয়েছে।

এ ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজা রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, সরই ইউপি সচিব মুছা মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মান করার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত টিম গঠন করে ইউপি সচিবের বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :