২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬ আশ্বিন, ১৪২৮

লামায় প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান হত্যার ঘটনায় আটক ৬

স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে শ্বাসরুদ্ধ ও বড় মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা

প্রকাশ : শনিবার, ২২ মে, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা

বান্দরবানের লামায় কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় জনকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে পাঁচ জনকে ও শনিবার সকালে স্থানীয় এক যুবককে আটক করে পুলিশ। 

আটককৃতরা হলেন- নিহত মাজেদা বেগমের দেবর মোঃ শাহ আলম (৪৩) ও মো. আবদুল খালেক (৪০), নিহতের বড় বোন রাহেলা বেগম (৪০), তার স্বামী মোঃ আবদুর রশিদ (৪৮), হাফেজ সাইদুর রহমান (১৮) ও স্থানীয় যুবক মো. রবিউল হোসেন (২১)। 

কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদ এর বড় স্ত্রীর মেয়ে রাবেয়া ইয়াছমিন (২২) বলেন, আমার ছোট মা মাজেদা বেগমকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে, ছোট বোন নুরে জান্নাত রিদা কে গলা টিপে ও মেজো বোন সুমাইয়া ইয়াছমিন রাফিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। 

রাবেয়া ইয়াছমিন আরো বলেন, ধনসম্পদ লুটের কারণে এই খুনের ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার আমার মা তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২ লক্ষ টাকা তোলে। আমার ধারনা খুনিরা হয়ত পরিচিত হবে। না হলে তারা অনায়াসে ঘরে কিভাবে ডুকবে। খুনিরা জোর করে ডুকলে ঘরের লোক চিৎকার দিলে আশেপাশে লোকজন এগিয়ে আসত। তাছাড়া এমনও হতে পারে, খুনিরা হয়ত আগে থেকে ঘরে ডুকে ওতপেতে ছিল।  

বান্দরবানের র‍্যাব-১৫ এর কোম্পানী কোমান্ডার এএসপি নিত্যান্দ দাস সাংবাদিককে জানান, আমরা যাদের সন্দেহ করছি ইতোমধ্যে তাদের অনেককে পুলিশ আটক করছে। খুব শীঘ্রই হত্যার ঘটনার ক্লু বের হবে। 

এই ঘটনায় এখনো মামলা রুজু বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান, লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আলমগীর। পুলিশ অনেক গুলো বিষয় মাথায় রেখে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চাম্পাতলী গ্রামে কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের বসতঘর থেকে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বশির আহমদ এর সাথে শনিবার দুপুর ২টায় কথা হয়। তিনি বলেন, তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তে শেষে বান্দরবানের থেকে লামা উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বিকেলে লাশ লামায় পৌঁছাতে পারে। 

লামা পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রিজওয়ানুল ইসলাম ও লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রবাসীর ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে দেখি মা মেয়েসহ ৩ জনের লাশ খাটে ও মেঝেতে পড়ে আছে।  লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোর ৪টার দিকে বান্দরবান পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘরের আলমিরা, ওয়ারড্রপ খোলে স্বর্ণালংকার লুটপাটের আলামত পাওয়া গেছে।  

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সরজমিনে পরিদর্শন করতে বান্দরবান পুলিশ সুপার জেরিন আখতার শনিবার দুপুরে লামায় এসেছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেলে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :