২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৮

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে

বেআইনি কাজে সহায়তা না করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা !

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা

লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে একটি কুচক্রীমহল আমাকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক নারী নির্যাতন মামলা করেছে।

দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শুক্রবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। তিনি আরো জানান, বান্দরবানের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে এক নারীর ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মতবিনিময়কালে মামলায় উল্লেখিত স্বাক্ষী ও পরিষদের সদস্য শফিউল আলম, আবু তাহেরসহ মামলার অপর বিবাদী আবদুল মন্নান উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা জানান, প্রকৃত পক্ষে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ধর্ষণ মামলার বাদীর কথিত স্বামী মাে. বেলাল উদ্দিন পরিষদের একজন চৌকিদার ছিলেন। গত বছর করােনা ভাইরাস সংক্রমণকালীন সময়ে সহায়তা বাবদ ২৫০০ টাকা হারে মােবাইলের মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রদান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। চৌকিদার বেলাল উদ্দিন কৌশলে অসংখ্য মানুষের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভােগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লামা থানায় অভিযােগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তদন্ত করে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় বিধি মােতাবেক পরিষদের সিদ্ধান্ত ক্রমে তাকে চৌকিদারের পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।

বাদীর স্বামী বেলাল উদ্দিন এই বিষয়ে আমাকে দায়ী করেন এবং মামলা থেকে তাকে খালাস ও স্বপদে বহাল করার বিষয়ে সার্বিক সহযােগিতা চান। বিষয়টি যেহেতু আইনী, সেহেতু আমি সহযােগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় চৌকিদার বেলাল উদ্দিন আমার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষের যােগসাজসে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযােগ তুলে স্ত্রীকে বাদী করে গত বৃহস্পতিবার আদালতে একটি সাজানাে ধর্ষণ মামলা করেন। যা সম্পূর্ণ বানােয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণােদিত। মামলাটি তদন্তের জন্য বান্দরবান সিআইডি’র অফিসার ইনচার্জ বরাবরে প্রেরণ করেছেন বিজ্ঞ আদালত।

এদিকে মামলায় উল্লেখিত স্বাক্ষী ও পরিষদের সদস্য শফিউল আলম জানায়, মামলার বাদী কর্তৃক রুপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলার অভিযােগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। না জানিয়ে মামলায় আমাকে কেন স্বাক্ষী দেয়া হয়েছে তাও বােধগম্য নয়। তিনি আরাে বলেন, বাদী অন্য জনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের মা হওয়া সত্বেও চৌকিদার মাে. বেলাল উদ্দিনের সাথে দীর্ঘদিন স্বামী স্ত্রী হিসেবে অনৈতিকভাবে বসবাস করে আসছেন। এসব অনৈতিক কারণে ইতিমধ্যে মামলার বাদী ওই নারীকে এলাকাবাসী সমাজচ্যুত করেছেন।

ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, মামলা খালাসের বিষয়ে চৌকিদার বেলাল উদ্দিন ও তার কথিত স্ত্রীকে নিয়ে বেশ কয়েকবার আমার কাছে এসেছিলেন এবং চেয়ারম্যানের সহযােগিতা চেয়েছিলেন। চেয়ারম্যান সহযােগিতা না করায় ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা অভিযােগ তুলে নারী নির্যাতন আইনে চেয়ারম্যানসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে শুনেছি।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মােহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা মামলায় বাদী লামা থানা অভিযোগ না নেয়ার বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করে। যা সত্য নয়। অভিযােগ নিয়ে ওই নারী কখনাে থানায় আসেনি। পুলিশ মামলা নেয়নি-একথা মােটেও সত্য নয়।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ :